মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ভূমিকা এবং নুরুল হুদার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চারিত হওয়ার দিকটি অনুপস্থিত থাকায় "উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশিত হয়নি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'রেইনকোট' গল্পের পটভূমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এ গল্পে' ঢাকা শহরের অবরুদ্ধ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যা-নির্যাতন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ভূমিকা সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। স্বাধীনতাকামী মানুষের সীমাহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই যে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি সেই বিষয়টি গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেদিন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ অনেক জায়গায় ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। চোখের সামনে এমন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন দেখে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সংগত কারণেই জীবনের ভয়ে পরদিন মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। যার মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরজুড়ে এক ভীতিকর অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। 'রেইনকোট' গল্পেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে ঢাকা শহরের থমথমে পরিবেশের চিত্র তুলে ধলা হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পের পটভূমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এ গল্পে ঢাকা শহরের অবরুদ্ধ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের কথা বর্ণিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের বর্ণনায়ও এসেছে। কিন্তু আলোচ্য গল্পে এর বাইরেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ভূমিকা সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া মিলিটারির অত্যাচারের মুখে। ভীতু নুরুল হুদার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চার হওয়া এবং তার সাহসী ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠা এ গল্পের ভিন্ন একটি দিক। একজন দেশদ্রোহী অর্থাৎ রাজাদের ঘৃণ্য কর্মেরও চিত্র গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকে এসব বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায় না। এ বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।