কেবল পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র ফুটে ওঠায় “উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি" মন্তব্যটি যথার্থ।
'রেইনকোট' গল্পে নুরুল হুদার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নে ঢাকা শহরের আমূল চিত্র। এ গল্পে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের চিত্র যেমন রয়েছে তেমনই রেইনকোটের প্রতীকে আরও নানা বিষয় উঠে এসেছে। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীরু প্রকৃতির মানুষ নুরুল হুদার মধ্যে যে সাহসিকতার সঞ্চার হয়েছে তা গল্পের অন্যতম একটি দিক।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে পঁচিশে মার্চ কালরাতের ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যার চিত্র। তারই রেশ ধরে ছাব্বিশে মার্চ দিনের বেলায় 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ লাইন ও পিলখানা এলাকায় আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের লাশ পড়ে ছিল যেখানে সেখানে। উদ্দীপকের এই বর্ণনার সঙ্গে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের মিল রয়েছে। তবে গল্পের পরিধি আরও ব্যাপক।
উদ্দীপকে পঁচিশে মার্চের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র বর্ণিত হয়েছে তা 'রেইনকোট' গল্পের একটি মাত্র দিক। এ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নের চিত্র, নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টুর মুক্তিযুদ্ধে যোগদান, মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে জড়িয়ে ভীতু নুরুল হুদার মাঝে সাহসিকতার সঞ্চার, মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি বিষয় পরিশীলিতভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।