"উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারের মতো 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ, কেননা, কলিমদ্দি দফাদার বিজয়ে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে, - কিন্তু নুরুল হুদা মিলিটারির হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
'রেইনকোট' গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে রচিত। ঢাকা কলেজের রসায়ন শিক্ষক নুরুল হুদাকে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মিলিটারির জনৈক পান্ডা ডেকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাকে ছাদের আংটার সঙ্গে ঝুলিয়ে বর্বর নির্যাতন করা হয়।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধকালীন এদেশের একটি বাজারে মিলিটারি এসে অবস্থান নেয় এবং ইউনিয়ন বোর্ড অফিস নিয়মিত খোলা রাখার নির্দেশ দেয়। আর বোর্ড অফিস খোলা রাখার দায়িত্বটা পড়ে কলিমদ্দি দফাদারের উপরে। কেননা, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মিলিটারির ভয়ে এদিকে আসেন না। মেম্বাররাও আত্মগোপন করেছেন। কলিমদ্দিকেই খান সেনারা সঙ্গী করে নেয় এবং সরকারি লোক হিসেবে সে যা হুকুম হয় তা পালন করে। তবে কলিমদ্দি দফাদারকে ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অর্থাৎ সে বাহ্যিকভাবে মিলিটারির সঙ্গে থাকলেও আসলে সে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গী। তাই সে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ষোলই ডিসেম্বর বিজয় পালন করছিল। কলিমদ্দি দফাদারের মতো 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নিয়মিত কলেজে যেত। কলেজে মিলিটারি ক্যাম্পের কাছে ট্রান্সফর্মার ধ্বংসকারী মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আঁতাঁত আছে বলে তাকে সন্দেহ করা হয়। তাকে গ্রেফতার করে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান পেতে চায় মিলিটারির জনৈক পান্ডা। কিন্তু নুরুল হুদা নির্মম-নির্যাতনেও মুক্তিযোদ্ধাদরে ঠিকানা জানান না। উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার মিলিটারির কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা লুকিয়ে রাখতে পেরেছিল। তাই তাকে তাদের নির্যাতন ভোগ করতে হয়নি।
উদ্দীপকে কলিমদ্দি দফাদার মিলিটারির সঙ্গী হয়ে থেকেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বুঝতে দেয়নি, এজন্য সে অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু নুরুল হুদা নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। মিলিটারির জনৈক পান্ডা তাকে সন্দেহ করেছে এবং সে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।