স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনার জন্য অকুতোভয় বাঙালিদের আত্মত্যাগের বিষয়টিই আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকের মূল উপজীব্য। এ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর নিপীড়ন ও হত্যাজজ্ঞের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে । 'রেইনকোট' গল্পে মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত ঢাকা শহরের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গেরিলা আক্রমনে পাক বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভীতু প্রকৃতির মানুষ নুরুল হুদার সাহসী হয়ে উঠার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে
উদ্দীপকে সাকিনা বিবির জীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসে যুদ্ধকে কেন্দ্ৰ করে। হরিদাসী তার স্বামীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পরে। দানবের মতো চিৎকার করে প্রবেশ করে হানাদার বাহিনীর ট্যাংক। যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ট্যাঙ্কের আক্রমণে ধ্বংস হয় অসংখ্যা ঘরবাড়ি, বস্তি ও জনবসতী। খইয়ের মতো ফুটছে মেশিনগান । প্রাণ ঝরেছে অসংখ্য নিরীহ মানুষের ।
উদ্দীপকে বর্ণিত হরিদাসী, সাকিনা বিবির অসহনীয় কষ্ট, তাদের প্রিয়জনের আত্মত্যাগই স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। অসংখ্য নরনারীর সম্ভ্রম হানী ঘটেছে। কেউ হারিয়েছে বাবা, কেউ স্বামী, কেউ ভাই আবার কেউ হারিয়েছে বোন এভাবে আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। 'রেইনকোট' গল্পেও আমরা আত্মত্যাগের বিষয়টি লক্ষ্য করি নুরুল হুদা, পাক বহিনীর হাতে বন্দি হয়ে নির্যাতিত হয়। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করে। সমস্ত ঢাকা শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এভাবেই ফুটে উঠেছে আত্মত্যাগের চিত্র যা উদ্দীপকেও দেখা যায়। তাই আলোচ্য উক্তি সমর্থনযোগ্য।