"উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।"- মন্তব্যটিকে যথার্থ বলে আমি মনে করি।
স্বাধীনতা আমাদের অহংকার। আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। এই স্বাধীনতা বাঙালির রক্তে কেনা। স্বাধীনতা অর্জনে দেশের মানুষকে অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শহিদের বুকের রক্তে লিখতে হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
উদ্দীপকের মনির একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তাকে পাকিস্তানি সেনারা ভবানীপুর গ্রামের ফকির বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে তার মুক্তিযোদ্ধা পিতার কথা জানতে চায়। মনির তাদের অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত হলেও কোনোকিছু প্রকাশ করে না। তার মনে পড়ে বাবার শেষ উপদেশ- "জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়।” গর্বে তার বুক ফুলে ওঠে। মনিরের এই চেতনা 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করে। এখানে গল্পের মূলভাবও একই বিষয়েই প্রকাশ পেয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু নুরুল হুদার মধ্যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম সঞ্চারিত হয়। তার কাছে মনে হয় জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন মনে করে গর্বে তার বুক ফুলে ওঠে। তখন শত্রুসেনাদের নির্মম নির্যাতন তার কাছে স্রেফ উৎপাত মনে হয়। দেশের প্রতি ভালোবাসা তাকে সাহসী করে তোলে। উদ্দীপকের চেতনাও একই ভাব প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।