'রেইনকোট' গল্পে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এদেশবাসীর আত্মত্যাগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যার সঙ্গে উদ্দীপকের মূলভাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর এ দেশের মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ দেশের সাহসী সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা । 'রেইনকোট' গল্পের মিন্টু, নুরুল হুদা, আবদুস সাত্তার মৃধা প্রমুখ সেই সূর্যসন্তানদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।উদ্দীপকে এ দেশের বীর মুক্তিসেনাদের স্মৃতি স্মরণ করা হয়েছে । মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের বলি হয় এ দেশের সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরূপ অসংখ্য বীরের আত্মত্যাগে রচিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস। ইতিহাসে সেই সকল বীরসেনার নাম লেখা না থাকলেও আমরা তাঁদের কাছে চিরঋণী।
'রেইনকোট' গল্পে বিধৃত হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরে বসবাসরত আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের জীবনচিত্র । গল্পে সহজ-সরল কলেজ শিক্ষক পর্যন্ত পাকিস্তানি মিলিটারিদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে এমন অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে আলোচ্য গল্পে। উদ্দীপকে নাম না জানা বীরসেনাদের স্তুতি বর্ণিত হয়েছে, দেশকে ভালোবেসে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য যাঁরা হাসিমুখে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। বড়ো বড়ো লোকদের ভিড়ে হয়তো ইতিহাসে তাঁদের নাম লেখা থাকবে না, কিন্তু দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে তাঁদের যে অবদান তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। অতএব বলা যায়, চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পে এক ও অভিন্ন ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।