উদ্দীপকে উঠে আসা মিলিটারিদের বর্বরোচিত আচরণ 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এ দেশের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। গল্পের কথকের বর্ণনা থেকে জানা যায়, মানুষ হত্যার পাশাপাশি পাকিস্তানিরা বাড়িঘর, হাট-বাজার, গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি মসজিদের আজানরত মুয়াজ্জিনকেও গুলি করে হত্যা করে। তৎকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ থেকে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষই রেহাই পায়নি।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি মিলিটারিদের নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ট্রাকে করে পাঞ্জাবি সৈনিকরা চোখ ও হাত বেঁধে মানুষদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার নিরপরাধ মানুষকে বন্দুক উঁচিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পাকিস্তানি হানাদাররা মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্বিচারে বাঙলিদের হত্যা করেছিল, চালিয়েছিল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটতরাজ। বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তানি হানাদাররা মানুষ হত্যার উৎসবে মেতে উঠেছিল । উদ্দীপকে এ বিষয়টিই চিত্রিত হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্প এবং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি মিলিটারিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। ২৫শে মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর আকস্মিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। অসংখ্য মানুষকে তারা হত্যা করে, বাড়িঘর লুট করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তারা নিরপরাধ মানুষকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে কখনো লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে, কখনো একসঙ্গে অনেক মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছে। আলোচ্য গল্পে দেখা যায়, নুরুল হুদার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যার জন্য ট্রাকে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেবল বাঙালি বলে নিরপরাধ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সুতরাং, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের দিকটি তুলে ধরায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য গল্পের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।