উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির সাহস, দেশপ্রেম ও বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।
'রেইনকোট' গল্পে বাঙালি জাতির সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। দেশের দুর্দিনে বাংলার ছেলেরা কখনো বসে থাকেনি। তাঁরা স্বদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে বিধায় পাকিস্তানি সেনাদের বাড়াবাড়ি মেনে নেয়নি। পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত হতে তেজোদীপ্ত ভূমিকায় তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গেরিলা আক্রমণের নিমিত্তে কখনো কখনো তাঁরা নৌকায় করে অপারেশনে অংশ নিয়েছে। তাদের শরীরে যে দ্রোহের উত্তাপ তা নুরুল হুদার শ্যালকের রেইনকোটের মাধ্যমে লেখক প্রস্ফুটিত করেছেন।
উদ্দীপকেও বাঙালি মুক্তিসেনার সেই উত্তাপ-উন্মাদনা ফুটে উঠেছে। বাঙালির ধমনিতে বিদ্রোহের চেতনা সর্বদাই প্রবাহিত ছিল। দস্যুর অত্যাচারে এ জাতি বারবার প্রতিবাদী ভূমিকা বেছে নিয়েছে। যতবারই হিংস্র নখর দিয়ে বাঙালি জাতির অস্তিত্বে থাবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই অগ্নিশিখার মতো অযুত প্রাণ জ্বলে উঠেছে। সূর্যের প্রখরতা হৃদয়ে ধারণ করে দস্যুপুরীতে আগুন ধরিয়েছে বাঙালি মুক্তিফৌজ। দিগন্ত থেকে দিগন্তে তাদের সেই দুঃসাহসী চিত্তের প্রভাব ছড়িয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পেও বাঙালি জাতির বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় ফুটে উঠেছে। প্রয়োজনে স্বদেশের জন্য কতটা ভয়ংকর রূপ যে বাংলার ছেলেরা ধারণ করতে পারে, তা-ই গল্পে প্রকাশ পেয়েছে । পাকিস্তানি মিলিটারিরা ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে কাবু করবে এ জাতিকে। তারা মানুষ হত্যা করেছে ঘর-বাড়ি, বাজার ও স্থাপনায় আগুনে জ্বালিয়েছে। নারীদের ধরে নিয়ে সম্ভ্রম হানি করেছে। কিন্তু এতেও তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়নি। বাঙালি ছেলেরা শত্রুর মসনদ কাঁপিয়ে দিয়ে নিজেদের চেতনাকে সমুন্নত রেখেছে। একের পর এক গেরিলা আক্রমণে নাস্তানাবুদ করেছে পাকিস্তানি সৈন্যদের। মিলিটারি হতচকিত হয়েছে মুক্তিসেনার সাহসী ভূমিকায়। নুরুল হুদাকে ধরে নিয়ে গিয়েও মিলিটারিরা কথা আদায় করতে পারেনি। কারণ শ্যালক মুক্তিযোদ্ধার মন্টুর রেইনকোট তার ভয় কাটিয়ে সাহস সঞ্চার করেছে। উদ্দীপকেও বাঙালির এই সাহসী ও বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।