কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের দিকটি উঠে আসায় বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে লেখক মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন । তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরলেও কেবল যুদ্ধের বর্ণনা না দিয়ে যুদ্ধকালীন বিভিন্ন পরিস্থিতিরও অবতারণা করেছেন। লেখক মুক্তিযুদ্ধের ভাব প্রকাশ করলেও এর বিস্তৃত পরিস্থিতির সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন গল্পটিতে। সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রকাশের পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক পরিস্থিতিরও অবতারণা করেছেন।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট আবহ তুলে ধরা হয়েছে। একটি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আগমন এবং মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধের দিকটি ফুটে উঠেছে উদ্দীপকটিতে। এখানে উঠে এসেছে মুক্তিবাহিনীর সাহসী গেরিলা আক্রমণের দিকটি। তাদের অতর্কিত হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানিরা। এ বিষয়গুলো 'রেইনকোট' গল্পেও ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পে বিশ্বাসঘাতক প্রিনসিপ্যাল সাহেব, ভীতু লেকচারার নুরুল হুদাসহ আরও কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকে চিত্রায়িত হয়নি । উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু গল্পের বিষয়বস্তুর বিস্তৃতির দিকটা ভিন্ন। 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোটটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু নুরুল হুদার মধ্যে যে সাহস ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয় তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে 'রেইনকোট' গল্পে। এছাড়া বিশ্বাসঘাতক প্রিনসিপ্যাল সাহেব এবং পাকিস্তানি মিলিটারির নির্মমতার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে গল্পটিতে। কিন্তু উদ্দীপকটিতে এমন কোনো প্রসঙ্গ নেই। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।