উদ্দীপকে বর্ণিত গুণাবলি (দূরদৃষ্টি, কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিবেদন ও ধৈর্য) স্বকর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও এগুলোকে সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত বলা যায় না। স্বকর্মসংস্থানে সফল হতে হলে এই মানবিক গুণাবলির পাশাপাশি আরও কিছু বস্তুগত ও কারিগরি সাপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে।
আমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি: ১. ব্যক্তিগত গুণের গুরুত্ব: উদ্দীপকের গুণগুলো একজন উদ্যোক্তাকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। ২. মূলধনের প্রয়োজনীয়তা: শুধুমাত্র পরিশ্রম দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত মূলধন বা আর্থিক সংস্থান। পুঁজি ছাড়া উদ্ভাবনী শক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। ৩. কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞান: বর্তমান যুগে শুধু পরিশ্রম যথেষ্ট নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কাজের ওপর বিশেষায়িত দক্ষতা বা কারিগরি জ্ঞান থাকা জরুরি। ৪. সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা: স্বকর্মসংস্থানকে টেকসই করতে সহজ শর্তে ঋণ, বাজারজাতকরণ সুবিধা এবং কর মওকুফের মতো সরকারি নীতিমালার প্রয়োজন হয়। ৫. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা: উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য দূরদৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি নেওয়ার সাহস ও সক্ষমতা থাকতে হয়।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত গুণগুলো হলো স্বকর্মসংস্থানের ভিত্তি বা মূল চালিকাশক্তি। তবে এই ভিত্তির ওপর সফলতার ইমারত গড়তে হলে প্রশিক্ষণ, মূলধন এবং অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের সমন্বয় থাকতে হবে। তাই এই গুণগুলো অপরিহার্য হলেও চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য এগুলোই একমাত্র পর্যাপ্ত মাধ্যম নয়।