উদ্দীপকে 'ক' দেশের তৃতীয় পর্যায়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে 'জনসংখ্যার জৈবিক ও সামাজিক তত্ত্ব' ধারণার ব্যবস্থাকে তুমি সমর্থন কর কি না? মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'ক' দেশের তৃতীয় পর্যায়ের জনসংখ্যা মূলত অধিক জনসংখ্যা নির্দেশ করে। এরূপ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে 'জনসংখ্যার সামাজিক তত্ত্ব' গ্রহণ করা উচিত, কারণ এটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পদ্ধতি। জনসংখ্যার জৈবিক তত্ত্ব অনুযায়ী, খাদ্য, সম্পদ ও বাসস্থানের সংকট স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনসংখ্যা হ্রাস করে। এটি মূলত প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে দুর্ভিক্ষ, রোগ, যুদ্ধ বা অন্যান্য বিপর্যয় 'জনসংখ্যা কমায়। তবে এ পদ্ধতি অমানবিক ও অনিয়ন্ত্রিত, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত নয়। অপরদিকে, জনসংখ্যার সামাজিক তত্ত্ব অনুযায়ী, পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল উপায়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এ পদ্ধতিতে মানবসম্পদ উন্নত হয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং মাথাপিছু আয় স্থিতিশীল থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশের তৃতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মানের অবনতি ঘটেছে। এ পরিস্থিতি জৈবিক তত্ত্ব অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হলে খাদ্য সংকট, দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। তাই, সামাজিক তত্ত্ব অনুসারে পরিকল্পিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হবে। সুতরাং, 'ক' দেশের জনসংখ্যা সমস্যার সমাধানে 'সামাজিক তত্ত্ব'-এর ভিত্তিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, যা টেকসই ও মানবিক পদ্ধতি।
HSC Economics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Economics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে 'ক' দেশের তৃতীয় পর্যায়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে 'জনসংখ্যার জৈ…
উদ্দীপক
নটরডেম কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর