হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনো অধিক।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখের কিছু বেশি। এই বিপুল পরিমাণে জনসংখ্যা হওয়ার মূল কারণ সমূহ হলো: মৃত্যুহার হ্রাস, জন্মহার বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, জন্মহার ও মৃত্যুহার এর অসঙ্গতি, দারিদ্র, ভৌগলিক প্রভাব, মহিলাদের কর্মসংস্থানের অভাব, ধর্মীয় গোড়ামী, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, পরিবার পরিকল্পনার শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবে এদেশের অনেক দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না। এর ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৭০% এবং তা ক্রমান্বয়ে কিছু দশকে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১.৩৭%, তবে ২০২২ সালে এই হার আরো হ্রাস পেয়েছে ১.২২%। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে তবে তা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক কম। তাই বাংলাদেশ এখন অধিক জনসংখ্যার দেশের মধ্যে রয়েছে।
এই জনসংখ্যার হার আরো হ্রাস করার জন্য কিছু পদক্ষেপ মেনে চললে ভবিষ্যতে তা কমিয়ে আনা সম্ভব। তার জন্য দারিদ্র হ্রাস করতে হবে। দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের জনসংখ্যার হার বেশি। দেশের বৃহৎ স্বার্থে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়ে জীবন যাচ্ছে আর মানোন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। বাল্যবিবাহের সাথে অধিক সন্তান জন্মদানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, তাই বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ রোধ করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনাকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের জন্য গণ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
উপরিউক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।