ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব ও কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশ একটি জনাধিক্যের দেশ।বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রতি বছর ১.৩৭% কিন্তু শস্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ১.৭৫%। অর্থাৎ যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে উৎপাদন সে হারে বাড়ছে না। এর ফলে এদেশে ঘাটতি লেগেই আছে। আবার, জন্মহার হ্রাসের জন্য সরকার, বিভিন্ন দাতা ও সামাজিক সংস্থা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে উৎসাহিত করছে। অর্থাৎ, এদেশে জনাধিক্য হ্রাসের লক্ষ্যে ম্যালথাসের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কিছুটা কার্যকর হচ্ছে। কাজেই বলা যায়, ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশকে জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।উদ্দীপকের কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী একটি দেশের প্রাপ্ত সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারের জন্য যে জনসংখ্যা প্রয়োজন তাকে ঐ দেশের কাম্য জনসংখ্যা বলে। আর এই কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা প্রকৃত জনসংখ্যা কম হলে নিম্ন জনসংখ্যার দেশ এবং বেশি হলে অধিক জনসংখ্যার দেশ বলা হয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যার আয়তন বিশাল ও জন্মহার বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ কম। তাই, এদেশে প্রকট বেকারত্ব, জীবনযাত্রার মান নিম্ন, পুষ্টিহীনতা, রোগ-ব্যাধি বিদ্যমান ও শিক্ষার অভাব প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয়।অনেক অর্থনীতিবিদ কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশ বলে বিবেচনা করেন। উপরের পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্ব দুটির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।