উদ্দীপকে প্রথম তত্ত্বটি হলো ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব। জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ম্যালথাস যে তত্ত্ব প্রদান করেন তা ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব নামে পরিচিত। এ তত্ত্ব অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে তথা ১, ২, ৪, ৮, ১৬,
ইত্যাদি হারে। আর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে তথা ১, ২, ৩, ৪... ইত্যাদি হারে। তাই একসময় জনসংখ্যা খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায় ।
উদ্দীপকের দুটি তত্ত্বের প্রথমটিতে জনসংখ্যার আধিক্য ও খাদ্য উৎপাদন সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম তত্ত্বটিতে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সামঞ্জস্য ও অসামঞ্জস্য নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। উক্ত তত্ত্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে। তাই এটি ম্যালথাসের তত্ত্বকে নির্দেশ করে ।
বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার ০.৬৫% মাত্র। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। আবার, ম্যালথাসের মতে প্রাকৃতিক নিরোধের ফলে জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় । তবে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক নিরোধের ফলে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। আবার প্রাকৃতিক নিরোধের ফলে এদেশের জনসংখ্যার কোনো অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। তবে জনাধিক্যের ফলে বেকার সমস্যা, খাদ্য সমস্যা ইত্যাদি লেগে আছে। তাই বাংলাদেশের সাথে ম্যালথাসের তত্ত্বকে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলা যায় না। তবে জনবহুল দেশ বলা যেতে পারে ।