প্রাকৃতিক নিরোধ মানুষের জন্য নিষ্ঠুর ও সীমাহীন দুঃখবহ হওয়ার কারণে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্যের জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা। অধিক কাম্য।
ম্যালথাসের মতে, দুই উপায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। যথা- ক) প্রাকৃতিক নিরোধ খ) প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। অতিরিক্ত দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পেশা, অত্যধিক পরিশ্রম, মহামারি, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধবিগ্রহ প্রভৃতি বিপর্যয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হওয়াকে প্রাকৃতিক নিরোধ বলা হয়। আবার বেশি বয়সে বিবাহ, বিবাহ জীবনে সংযম, বহুবিবাহ পরিহার, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি উপায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলা হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি বলে দেশে জনাধিক্য দেখা দেয়। এ অবস্থায় খাদ্যাভাব অপুষ্টি, বেকারত্বসহ নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা, সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক নিরোধ কার্যকরী হয়। প্রাকৃতিক নিরোধ তথা অতি দারিদ্র্য, মহামারি, দুর্ভিক্ষ, যদুবিগ্রহ ইত্যাদির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়। যা মানুষের জন্য নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রাকৃতিক নিরোধ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া প্রাকৃতিক নিরোধ একটি সাময়িক ব্যবস্থা বলে তা জনাধিক্য নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারে না। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় মানুষ স্বেচ্ছায় জন্মনিয়ন্ত্রণ করে বলে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। এর মাধ্যমে জন্মহার কমিয়ে জনসংখ্যা সহজেই - স্থায়িভাবে কমিয়ে ফেলা সম্ভব। তাই বলা যায়, খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য অর্জনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অধিক কাম্য।