বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি যথেষ্ট কার্যকর।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বে দেখানো হয় যে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খাদ্য উৎপাদনের হারের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও জমির স্বল্পতা থাকায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন অপেক্ষা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। বর্তমানে এ দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭% এবং খাদ্য উৎপাদনের হার মাত্র ০.৬৫%।
উদ্দীপকে আলোচিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি বিশ্লেষণ করে আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে এর খুব মিল খুঁজে পাই। বাংলাদেশের কৃষি জমির পরিমাণ সীমাবদ্ধ, কৃষিক্ষেত্রে ক্রমহাসমান উৎপাদন বিধি কার্যকর এবং উৎপাদিত খাদ্য জনসংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে ও খাদ্য উৎপাদনের হার গাণিতিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ম্যালথাস বর্ণিত দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশে একজন মানুষের ভরণপোষণের জন্য ১.২ থেকে ১.৮০ একর জমির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ ০.২৫ একর। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি যথেষ্ট কার্যকর। এই তত্ত্বে জনসংখ্যা সমস্যার সব লক্ষণই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান। ফলে অধিক জনসংখ্যা ও খাদ্য ঘাটতি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২/