উদ্দীপকের সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যার সাদৃশ্য রয়েছে; কেন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-উদ্দীপকটি পাঠ করে জানা যায়, অতীতে একসময়ে শিক্ষিতের হার কম হওয়া সত্ত্বেও 'ক' দেশের জনগণ সুখ-শান্তিতে বাস করত। গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, এসবই তাদের ছিল। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে সে দেশের জনগণ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী দ্বারা জনগণের খাদ্যের সংস্থান সুষ্ঠুভাবে করা যাচ্ছে না। দেশে খাদ্য ঘাটতি লেগেই আছে। খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতিবছর মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। তাছাড়া ক্রয়ক্ষমতার অভাবে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনমাফিক খাদ্য ক্রয় করতে পারছে না; পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয় করা তো দূরের কথা। এ অবস্থায় দেশটির জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনাহার, অর্ধাহার ও অপুষ্টির শিকার। অতিরিক্ত জনসংখ্যার দরুন কৃষি ও কৃষি-বহির্ভূত খাতে কর্ম- সংস্থানের সুযোগ কম হওয়ার দেশের প্রকট বেকারত্ব বিদ্যমান। তাছাড়া অধিক জনসংখ্যা ও তার দ্রুত বৃদ্ধির দরুন নানাভাবে পরিবেশ দূষিত হওয়ায় ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। দূষিত পরিবেশ সামাজিক অনাচার সৃষ্টি করছে- ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি বেড়েই চলেছে। এসবই হলো ম্যালথাসের তত্ত্বানুসারে অতিরিক্ত জনসংখ্যার লক্ষণ।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের সাদৃশ্য রয়েছে।