উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণ ছাড়া আর যেসব কারণে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি তা আলোচনা করা হলো-
ভূপ্রকৃতি : বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অধিকাংশ এলাকা সমতল এবং পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি কম। তাই মানুষের জীবিকা নির্বাহ, যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধা, জীবনধারণের ব্যয় কম বলে, বেশি ঘনবসতিপূর্ণ। ফলে এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
পুত্র সন্তান কামনা : বাংলাদেশে মূলত পুরুষশাসিত সমাজ বিদ্যমান। ফলে সবাই পুত্র সন্তান কামনা করে। এক্ষেত্রে পুত্র সন্তানের আশায় অধিক সন্তান নিয়ে থাকে। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। খাদ্যে শ্বেতসারের আধিক্য : খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্বেতসারের আধিক্য থাকলে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সহজেই সন্তান জন্মদানের উপযোগী হয়। শিল্পায়ন : যেসব অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে ওইসব অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব বেশি হয়। এজন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব বেশি। এছাড়া নাগরিক সুবিধা বেশি থাকার কারণে এসব অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব বেশি হয়ে থাকে।
নিরাপত্তা : যেসব অঞ্চলে জানমালের নিরাপত্তা বেশি সেখানে লোকবসতি বেশি। বাংলাদেশ সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে তুলনামূলকভাবে নিরাপত্তা লাভের সুযোগ বেশি। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্বও বেশি।
বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ : এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ। এদেশের ছেলেমেয়েরা অল্পবয়সে বিবাহ করে ফলে জন্মহার বৃদ্ধি পায় এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হয়।
মূলত এসব কারণেই বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হওয়ার জন্য দায়ী। তাই বাংলাদেশ পৃথিবীর জনবহুল দেশগুলোর অন্যতম।