উদ্দীপকে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে মানবসম্পদ উন্নয়ন সরকার শিল্প ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অপুষ্টি দূরীকরণ, নারী শিক্ষার প্রসার ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এছাড়া সরকারকে আরও অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন—
১. কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা : বাংলাদেশের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের কারিগরি ও প্রকৌশলগত জ্ঞান দানের সুব্যবস্থা করলে তাদের কর্মক্ষমতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে।
২. আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন : গ্রামবাংলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এসব কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ফলে গ্রামাঞ্চলে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং জনগণের গুণগত মান উন্নত হবে।
৩. মুদ্রাস্ফীতি রোধ : স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধের জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফলে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান তথা গুণগত মান উন্নত হবে।
৪. উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি : শিল্পকারখানায় কাজের ও শ্রমিকদের বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
৫. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ : বাংলাদেশে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করতে পারলে জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ফলে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং গুণগত মান উন্নত হবে।
৬. কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা : বিপুল সংখ্যক বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশে বিভিন্ন ধরনের কল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে তাদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে, আয় বাড়বে এবং গুণগত মান উন্নত হবে।
৭. বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ : বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে । এর ফলে কৃষি, শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে। ফলে মোট জাতীয় আয় তথা জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং তাদের গুণগত মান উন্নত হবে।
সুতরাং দেখা যায় মানবসম্পদ উন্নয়নে উদ্দীপকে সরকার গৃহীত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আরও অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।