বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি কিছুটা কার্যকরী হলেও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। নিম্নে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো।
ম্যালথাস তার জনসংখ্যা করতে বলেন, জনসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় জ্যামিতিক হার (১,২,৪,৮,১৬,৩২----) বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (১,২,৩,৪,৫---)। এবং প্রতি ২৫ বছর পর পর সে দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ২৫ বছরের অধিক সময় ব্যবধানে জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও তা জ্যামিতিক হারে বাড়েনি। এবং খাদ্য উৎপাদন ২৫ বছর পূর্বে ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ম্যালথাসের মতে দেশে ভূমির যোগান সীমাবদ্ধ হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন সেভাবে বাড়ানো যায় না। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে ভুমির যোগান সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।এবং জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলেও তা জ্যামিতিক হারকে প্রকাশ করেনি। ফলে দেখা যায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যাধিক হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে খাদ্য উৎপাদনের হারের একটা ভারসাম্য সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনসংখ্যা সবসময় জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারে বাড়ে না। ফলে এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়। যা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পরিলক্ষিত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়,উদ্দীপকে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি কার্যকর হলেও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।