জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সৃষ্ট ব্যবধান দূরীকরণে ম্যালথাসের তত্ত্বে প্রতিরোধমূলক ও প্রাকৃতিক নিরোধের কথা উল্লেখ আছে।
ম্যালথাস তার তত্ত্বে বিলম্বে বিবাহ, যৌন সংযম, কৌমার্য অবলম্বন ইত্যাদি পন্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলা হয়। আবার, যুদ্ধ বিগ্রহ, মহামারি, দুর্ভিক্ষ, খাদ্যাভাব প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনসংখ্যার অতিরিক্ত অংশ প্রাণসংহারকে প্রাকৃতিক নিরোধ বলে। উদ্দীপকের সারণিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সৃষ্ট ব্যবধান ম্যালথাসের তত্ত্বকে নির্দেশ করে। ম্যালথাস মনে করেন, খাদ্যের যোগানের তুলনায় জনসংখ্যা বেড়ে গেলে মহামারি, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকট আকারে দেখা দেয়। এভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রাণসংহারকে 'প্রাকৃতিক নিরোধ' বলা হয়।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে 'প্রাকৃতিক নিরোধ' কার্যকর হলে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে যে ভারসাম্য স্থাপিত হয় তা খুবই স্বল্পস্থায়ী। কারণ মানুষের সন্তানোৎপাদন স্পৃহা এতই প্রবল যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে তা পুনরায় খাদ্যের যোগানকে ছাড়িয়ে যায়। তাই ম্যালথাস জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা বলেছেন। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ পরিহার, নৈতিক সংযম অবলম্বন, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি উপায়ে মানুষ জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ ম্যালথাস জনসংখ্যা ও খাদ্যের যোগানের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রাকৃতিক নিরোধের চেয়ে প্রতিরোধমূলক নিরোধের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।