উদ্দীপকের সূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তত্ত্বটি হলো ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মূলভিত্তি হলো জনসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। জীবনধারণের জন্য খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে। এক্ষেত্রে ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২... হলো জ্যামিতিক হার এবং ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ldots হলো গাণিতিক হার। ফলে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য বিনিষ্ট হয়।
উদ্দীপকের সূচিতে খাদ্য উৎপাদন ৫, ৬, ৭, ১০, ১০ ও ১১ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে জনসংখ্যা ১৬, ৩২, ৬৪, ১২৮, ২৫৬, ৫১২ ও ১০২৪ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন সে অনুপাতে না বেড়ে গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ এটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বকে সমর্থন করে।
ম্যালথাস মনে করেন খাদ্যের যোগানের তুলনায় জনসংখ্যা বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুযোর্গ দেখা দেয়। ফলে জনসংখ্যার অতিরিক্ত অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যাকে ম্যালথ্যাস প্রাকৃতিক নিরোধ বলেছেন। এই নিরোধের মাধ্যমে জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যে যে ভারসাম্য হয় তা স্বল্পস্থায়ী। কারণ মানুষের সন্তানোৎপাদন স্পৃহা প্রবল যে তা পুনরায় খাদ্যের যোগানকে ছাড়িয়ে যায়। তাই ম্যালথাস জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা বলেছেন। অর্থাৎ ম্যালথাস জনসংখ্যা ও খাদ্যের যোগানের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রাকৃতিক নিরোধ অপেক্ষা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।