আমাদের দেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বরং, B বিন্দু থেকে ক্রমশ C বিন্দুর দিকে ধাবমান কোনো একটি অবস্থা নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে ছক থেকে লক্ষ করা যায়, ১২ কোটি জনসংখ্যা স্তরে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ৪২০০ ডলার। এরূপ জনসংখ্যাকেই Boulding কাম্য জনসংখ্যা বলে। চিত্রে ৬ কোটি হলো নিম্ন জনসংখ্যা এবং ১৮ কোটি হলো অধিক জনসংখ্যা। এরূপ ক্ষেত্রে দেশে প্রাপ্ত সম্পদের তুলনায় প্রকৃত জনসংখ্যা যথাক্রমে কম ও বেশি হওয়ায় সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহার ও দুষ্প্রাপ্যতার কারণে জীবনযাত্রার মান কম হয়। অতএব দেখা যায়, ১৪ কোটি জনসংখ্যা স্তরে মাথাপিছু আয় সর্বাধিক ৪২০০ ডলার হয় তাই এ পরিমাণ জনসংখ্যাকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যা পরিস্থিতি কোন বিন্দুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করা হলো-
বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি প্রায়। কাম্য জনসংখ্যা বাংলাদেশে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এখনো চরম জনাধিক্য সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ধীরে ধীরে হলেও মাথাপিছু জাতীয় আয় এবং জীবনযাত্রার মান ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এদেশে যা কিছু প্রাকৃতিক রয়েছে, তার সবটুকু এখনো ব্যবহৃত হয়নি। অনাবিষ্কৃত ও আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদগুলো সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে ভবিষ্যতে জনগণের জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয় আরও বাড়বে। আবার সীমিত আয়তনের কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে বর্তমানে একই সাথে চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জীবনযাত্রার নিম্নমান, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদির উপস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করছে। সুতরাং, এটি সহজে অনুমেয় যে, বর্তমানে বাংলাদেশ জনসংখ্যা বিস্ফোরণজনিত সমস্যার দ্বারপ্রান্তে। ছকে B বিন্দুতে কাম্য জনসংখ্যা এবং C বিন্দুতে অধিক জনসংখ্যা চিহ্নিত রয়েছে।
তাই বাংলাদেশের উদ্বেগজনক জনসংখ্যা পরিস্থিতি B কিংবা C কোনো বিন্দুতেই নয় বরং B বিন্দু থেকে ক্রমশ C বিন্দুর দিকে ধাবমান কোনো একটি অবস্থা নির্দেশ করে।