জনসংখ্যা শুধু অভিশাপ নয় বরং আশির্বাদও বটে- উক্তিটি যথার্থ।
"দক্ষ জনসংখ্যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক।" আমাদের একটা প্রচলিত ধারণা হলো জনসংখ্যা বোধহয় সবসময়ই বোঝাস্বরূপ। কিন্তু এই জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। চীন আজ বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হয়েছে এই দক্ষ জনসংখ্যার কল্যাণেই। নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে জনগণ দক্ষতা অর্জন করবে।
❖ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন-মোটর মেকানিক্স, ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ইত্যাদি।
❖ প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো দেশের গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত করতে হবে এবং স্বল্প কোর্স ফির মাধ্যমে চালাতে হবে।দেশে পর্যাপ্ত কারিগরি স্কুল, পলিটেকনিক, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং কলেজ স্থাপন করতে হবে।
❖ ভারী শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। কারণ একটি ভারী ও বৃহৎ শিল্পকারখানাকে কেন্দ্র করে কয়েকশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা গড়ে ওঠে। এতে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
❖ দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার শতভাগ কাজে লাগাতে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে পণ্যের দাম কমে আসবে, সেইসাথে উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশ্বের বহু উন্নত দেশ বর্তমানে নিম্ন জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ৪৮টি উন্নত দেশে ২০৩০ সাল নাগাদ ষাটোর্ধ্ব মানুষের পরিমাণ হবে মোট জনসংখ্যার ২৮ ভাগ এবং ২০৫০ সালে তা দাঁড়াবে ৩৪ ভাগ। এই সময়কালে ঐ দেশগুলোতে প্রচুর জনশক্তির দরকার হবে, যা তারা জনবহুল দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করবে। এই জনশক্তির বাজার ধরতে পারলে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যাবে। এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত জনসংখ্যা না থাকলে প্রাকৃতিক সম্পদের পর্যাপ্ত ব্যবহার করা যায় না। এর জন্য দরকার কর্মদক্ষ জনশক্তি। জনগণ যত উৎপাদনশীল কাজ করবে দেশে অর্থের প্রবাহ তত বাড়বে। আর অর্থের প্রবাহ যত বাড়বে সম্পদের সুষম বণ্টন তত নিশ্চিত হবে। সুতরাং জনসংখ্যা শুধু অভিশাপ নয়, আশীর্বাদও বটে।
তবে এর জন্য দরকার জনসংখ্যার কার্যকর ব্যবস্থাপনা। একটি দেশপ্রেমিক সরকার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে পারলে সফলতা আসবেই।