উদ্দীপকের চিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তত্ত্বটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে ১৭৯৮ সালে ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ধর্মযাজক ও অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস তার জনসংখ্যা তত্ত্বটি প্রচার করেন। এ তত্ত্বের মূলকথা হলো- অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে। জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো- ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪ ইত্যাদি হারে। আর গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি হারে। জমির যোগান সীমাবদ্ধ হওয়ায় জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পায় খাদ্য উৎপাদন সে হারে বৃদ্ধি পায় না। ম্যালথাসের মতে, প্রতিটি দেশেই প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। কিন্তু জমিতে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধি কার্যকর বলে খাদ্য উৎপাদন দ্রুত বাড়তে পারে না। ফলে একটি পর্যায়ে জনসংখ্যার পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায় এবং দেশে জনাধিক্য সমস্যা দেখা দেয়। উদ্দীপকে চিত্রে একটি দেশের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দেখা যায়, প্রতি ২৫ বছর পর দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬) এবং খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫)। এ তথ্যটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তত্ত্বটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব।