উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ও তৃতীয় পর্যায়ের জনসংখ্যাকে অর্থাৎ নিম্ন জনসংখ্যা ও উচ্চ জনসংখ্যাসম্পন্ন দেশকে কাম্য জনসংখ্যা স্তরে পৌছাতে যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা নিচে আলোচনা করা হলো-
নিম্ন জনসংখ্যাসম্পন্ন দেশের জন্য কিছু কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন- বৈদেশিক অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশি দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের দেশে এনে শ্রমবাজার চাঙা করা, নাগরিকত্ব সহজ করা, প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, পরিবারে সন্তান জন্মদানে প্রণোদনা প্রদান, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশু কেন্দ্র স্থাপন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সহায়ক করে তোলা।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত জনসংখ্যাসম্পন্ন দেশের জন্য প্রয়োজন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক সচেতন কর্মসূচি। যেমন- বিস্তৃত পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সরবরাহ বৃদ্ধি, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধ করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি। একইসঙ্গে, শহরকেন্দ্রিক চাপ কমাতে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং পরিবার ছোট রাখতে উৎসাহিত হয়।
এছাড়া এ ধরনের দেশে সরকারের উচিত একটি শক্তিশালী জনসংখ্যা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে হ্রাস করা এবং একটি উন্নতমানের জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করা।