উদ্দীপকের দুটি তত্ত্বের মধ্যে একটি হলো ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব ও ২য়টি হলো কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব। এদের তুলনামূলক আলোক করা হলো-
১. ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যাকে খাদ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে দেশের যাবতীয় সম্পদের সাথে সম্পর্ক রেখে এবং তার ওপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুতরাং এদিক থেকে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি অধিক বাস্তবধর্মী।
২. ম্যালথাসের তত্ত্বটি গতিশীল। এ তত্ত্বে সময়ের সাথে জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক আলোচিত হয়েছে। আর কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি স্থির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৩. ম্যালথাসের তত্ত্ব মতে, দেশে মহামারি, খাদ্যাভাব ইত্যাদি দেখা দিলে বুঝতে হবে দেশে জনাধিক্য হয়েছে। আর কাম্য তত্ত্বে বলা হয়েছে, মাথাপিছু আয় কমলে বুঝতে হবে দেশে জনাধিক্য হয়েছে।
৪. ম্যালথাসের তত্ত্ব মতে, দেশে জনাধিক্য হলেই অশান্তি, মহামারি, খাদ্যাভাব প্রভৃতি দেখা দিবে। আর কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা অধিক হলে মাথাপিছু আয় কমবে। আবার কাম্য জনসংখ্যা থেকে জনসংখ্যা কম হলেও মাথাপিছু আয় কমবে। অর্থাৎ কাম্য জনসংখ্যার কমবেশি উভয় ক্ষেত্রেই দেশের অকল্যাণ সৃষ্টি হবে।
৫. ম্যালথাসের তত্ত্বে জনসংখ্যাকে একটি বোঝাস্বরূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যাকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সর্বশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব সমালোচিত হওয়ার পরই কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটির সৃষ্টি হয়েছে। কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি অধিক বাস্তবসম্মত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক।