উদ্দীপকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিশেষ কিছু উপাদানের আলোকপাত করা হয়েছে। নিম্নে উপাদানগুলোর অর্থনৈতিক তাৎপর্য আলোচনা করা হলো যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছে। কর্ণফুলির উজানে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে আদিবাসীরা জুম চাষ করছে। তাছাড়া পাহাড়ে ধান, চা, আনারস চাষ হচ্ছে। এসব জায়গায় প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে যা দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করেছে। বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও শাল, সেগুন, গর্জন, গজারিসহ বহু বৃক্ষ আছে যা কাঠের চাহিদা পূরণ করে। সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল চা চাষের জন্য বিখ্যাত যা বাংলাদেশের পাটের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। রপ্তানি আয়ের বৃহৎ একটি অংশ চা হতে আসে। এছাড়া এ অঞ্চলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষ মুৎস্য শিকার, শুঁটকি তৈরি এবং লবণ চাষে ব্যস্ত সময় পার করে। বাংলাদেশের মাটি অনেক উর্বর প্রকৃতির হওয়ায়, এখানে অনেক ভালো ফসল জন্মে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানের অর্থনীতিতে নদীর অবদান ব্যাপক। নদীর অববাহিকায় আধিবাসিগণ মৎস্য শিকার, মৎস্য ব্যবসায়, নৌচালনা, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসায় করে জীবিকা অর্জন করেও অর্থনীতির উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, নদনদী, মৃত্তিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।