উদ্দীপকের আলোকে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের শাসন ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হলো।ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে পরাভূত করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার উন্নতির দিকে সামান্যতম দৃষ্টিপাত করত না। পক্ষান্তরে, তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ ক্রমেই প্রকট হতে থাকে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে এদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অর্থনৈতিক শোষণ। ইংরেজরা ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর ১৯০ বছর বাংলার ওপর ঔপনিবেশিক শোষণ চালায়। ফলে এখানকার ব্যবসায় বাণিজ্য, বস্ত্রশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের উৎপাদিত কাঁচাপাট, চামড়া, চা, ইক্ষু প্রভৃতি পণ্যের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হতো। বস্ত্রশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য বস্ত্র উৎপাদনে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁতিদের আঙুল কেটে দেয়। এছাড়া সরকারি আফিস-আদালতে উচ্চ পদে নিয়োগের সংখ্যা ছিল বাঙালিদের তুলনায় পাকিস্তানিদের অনেক বেশি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা বাঙালিকে নানাভাবে শোষণ-নির্যাতন করে।