উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ হলো— ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু ও বৃষ্টিপাত, মৃত্তিকা । বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের এসব উপাদান দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভূপ্রকৃতি : বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ সর্বত্র একরূপ নয়। ভূ- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি প্রধানত দুই ধরনের (সমভূমি ও পাহাড়ি) হলেও এর মধ্যে ভিন্নতা বা বিভিন্নতা রয়েছে। কোনো স্থানের ভূপ্রকৃতি পার্বত্য, সমভূমি, বনভূমি, বরেন্দ্রভূমি এবং কোথাও মাটির রং লাল বা জলাশয়, হাওর-বিল প্রভৃতি বিদ্যমান।
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি অঞ্চল; রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি; মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় হলো প্লাইস্টোসিন কালের চত্বর ভূমি বা সোপান, যা প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বে গঠিত। এছাড়াও রয়েছে খুলনা, রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার বনভূমি। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং চাও উৎপাদন হয়।
নদনদী : মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে নদীর প্রভাব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । পানীয় জলের অভাব পূরণ, কৃষিক্ষেত্রে পানিসেচ, জলপথে ব্যবসায় বাণিজ্যের সুবিধা, মৎস্য আহরণ, পানি-বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদির মাধ্যমে নদী মানুষের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হলো বাংলাদেশের প্রধান নদী। এছাড়া শাখানদী, উপনদীসহ ২০০-এর অধিক নদনদীর পলিবিধৌত উর্বর ভূমির দেশ বাংলাদেশ ।
জলবায়ু ও বৃষ্টিপাত : জলবায়ুর তারতম্যের ফলে বিভিন্ন স্থানের মানুষের বাসস্থান, পেশা, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য হয়ে থাকে। মানুষের দৈহিক গঠন ও কাঠামো, কর্মদক্ষতা ইত্যাদিও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন । গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। গড় বৃষ্টিপাত ১২০-৩৪৫.৪ সে.মি., বাতাসের গড় আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৯৯% এবং সর্বনিম্ন ৩৬% ।
মৃত্তিকা : মৃত্তিকার গুণাগুণের ওপর কৃষির সাফল্য নির্ভর করে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভূমির বেশিরভাগ নদী বিধৌত পলি দ্বারা গঠিত। এখানকার মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই নাইট্রিক ও ফসফরিক এসিড থাকায় জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উর্বর মৃত্তিকাযুক্ত এ অঞ্চলে কৃষির উন্নতি এবং কৃষি নির্ভরশীল শিল্প বিকশিত হচ্ছে।