উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ভূপ্রকৃতি : ভূগঠনের ওপর নির্ভর করে ভূপ্রকৃতি। বাংলাদেশ একটি বিস্তীর্ণ সমভূমির দেশ। তবে এ দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে সীমিত পাহাড়ি উচ্চভূমি বিদ্যমান। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দেখা যায়।
২. নদনদী : বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অসংখ্য নদনদী তাদের শাখা দ্বারা জালের মতো ঘিরে রেখেছে এ দেশ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী বাংলাদেশের বড় বড় নদনদী। তাছাড়া উপনদী ও শাখানদী বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
৩. জলবায়ু : বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ দেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৪.৪° সে. থেকে ২৬.৭° সে. পর্যন্ত।
৪. বনভূমি : একটি দেশের অর্থনীতিতে বনজ সম্পদ প্রয়োজনীয় পরিমাণ থাকা আবশ্যক। কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ২৫% বনভূমি থাকা আবশ্যক হলেও বাংলাদেশে মাত্র ১৭.০৮% বনভূমি রয়েছে।
৫. মৃত্তিকা : শিলা ক্ষয় ও জৈব পদার্থের মিশ্রণে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়। মৃত্তিকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (SRDI)-এর শ্রেণিকৃত ৫০০ শ্রেণির মাটির মধ্যে বাংলাদেশে পলিমাটি বেশি।
৬. খনিজ সম্পদ : ১৯৫১ সালে খনিজ সম্পদ আবিষ্কার দিয়ে বাংলাদেশ খনিজ যুগে পদার্পণ করে। প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা, পিট সম্পদ, চুনাপাথর, চীনামাটি, কঠিন শিলা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান খনিজ সম্পদ।
৭. প্রাণিজ সম্পদ : প্রাণিজ সম্পদ মূলত মৎস্য সম্পদ ও পশুসম্পদকে নির্দেশ করে। এ দেশের নিজস্ব তটরেখাসহ জলসীমায় প্রচুর সামুদ্রিক মৎস্য এবং নদী, খাল, বিল, পুকুর ও হাওর-বাঁওড়ে প্রচুর পরিমাণে মিঠা পানির মৎস্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে পশুসম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরু, মহিষ, হাঁস, মুরগি, বাঘ, হরিণ, বানর, সরীসৃপ ও বিভিন্ন ধরনের পাখি।