ব্রিটিশদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাকিস্তান সরকারও বৈষম্য ও শোষণ নীতি অবলম্বন করে বাংলাদেশকে তাদের অস্থায়ী কলোনি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। নিচে পাকিস্তান আমলের শোষণ, বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হলো।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। যার দুটি প্রদেশ হলো পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ)। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। পাকিস্তান আমলে রাজস্ব আয়ের বেশি অংশ অর্জন হতো পূর্ব পাকিস্তান হতে। অথচ, তার সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। যেমন- ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৬০-৬১ অর্থবছর পর্যন্ত মোট রাজস্ব ব্যয়ের মাত্র ১২% পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয় করা হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানে বেসরকারি বিনিয়োগ কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। রাজধানী পশ্চিম পাকিস্তানে হওয়ায় সেখানকার ২২টি পরিবারের হাতে বেসরকারি বিনিয়োগের ৮০ ভাগ চলে যায়। ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে পূর্ব পাকিস্তানে মাথাপিছু আয় ছিল ৩৩৯ টাকা, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে তা ছিল ৫০০ টাকা। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর শোষণের ফলে এদেশে প্রবৃদ্ধির হারও পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় কম ছিল।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শোষণ, বঞ্চনার মাত্রা ছিল অসহনীয়। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়।