উদ্দীপকের ভিত্তিতে করিম মিয়া যে ঋণগুলো নিয়েছে তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. উৎপাদনশীল ঋণ: যে ঋণ প্রত্যক্ষভাবে কৃষি উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করে তাকেই উৎপাদনশীল ঋণ বলে। যেমন- বীজ, সার, ওষুধ, গরু, সেচ ব্যবস্থা, মজুরি দেওয়া, জমির স্থায়ী উন্নয়ন ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত ঋণ সবই উৎপাদনশীল ঋণ। কৃষি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য এ ধরনের ঋণ প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে এ ঋণ পাওয়া যায়।
২. ভোগ্য ঋণ : প্রান্তিক কৃষক ও ভূমিহীন কৃষকদের এক ঋতুর ফসলে বছরের ভরণপোষণ সংগ্রহ সম্ভব হয় না। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলহানি হয়। এ সময় কৃষকদের দৈনন্দিন প্রয়োজন তথা বেঁচে থাকার জন্য ভোগ্য ঋণ প্রয়োজন হয়। এ ধরনের ঋণ গ্রাম্য মহাজন, ভূস্বামীর নিকট থেকে উচ্চ সুদের হারে সংগ্রহ করতে হয়।
৩. অনুৎপাদনশীল ঋণ : ভোগ ছাড়াও কৃষককে নানা ধরনের অনুৎপাদনশীল কর্ম যেমন মামলা-মকদ্দমা, সন্তানদের বিয়েশাদী, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, জন্মমৃত্যু প্রভৃতি কাজে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। যেহেতু এসব খাত অনুৎপাদনশীল, তাই এ ঋণ মহাজন ও ভূস্বামীর নিকট থেকে গ্রহণ করতে হয়।
আলোচনার প্রেক্ষিতে দেখা যায় আব্দুর করিম মিয়া উৎপাদনশীল ঋণ, ভোগ্য ঋণ ও অনুৎপাদনশীল ঋণ নিয়েছে।