উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষিজোতটি ক্ষুদ্রায়তন কৃষিজোত। ক্ষুদ্রায়তন কৃষিজোতে চাষাবাদের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
১. অপ্রতুল কৃষিজমি: ক্ষুদ্র আকারের কৃষিজোতে চাষাবাদ করার ফলে প্রতি একক জমি থেকে পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। ফলে কৃষক ও তার পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
২. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব হয় না: আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার বা উন্নত সেচ ব্যবস্থা ক্ষুদ্র জমিতে ব্যবহার করা কঠিন। ফলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
৩. অতিরিক্ত শ্রম ব্যয়: ক্ষুদ্র জমিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের শারীরিক পরিশ্রম বেশি করতে হয়, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
৪. বিপণন সমস্যা: এ ধরনের খামারে উৎপাদিত ফসল অতিরিক্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না, ফলে কৃষক বাজারে বিক্রির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে পারে না।
৫. আয়ের অনিশ্চয়তা: কৃষি খামার ছোট হওয়ার কারণে কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারে না। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় না।
সুতরাং, ক্ষুদ্রায়তন কৃষিজোতের কারণে কৃষকের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব হয় না, উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষি জমির সমবায়ীকরণ, সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এবং কৃষি প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।