উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যা সমাধানে সরকারি পদক্ষেপগুলো (পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ন্যায্যমূলে কৃষি পণ্য ক্রয় ও বিপণন, ঋণ সহজীকরণ) কার্যকর হলেও সম্পূর্ণরূপে পর্যাপ্ত নয়।প্রথমত, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের পণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয় এবং পরিবহণ খরচও বেড়ে যায়। সরকার কর্তৃক 'পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকরা সহজে ও কম খরচে তাদের পণ্য বাজারে নিতে পারবে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি কমাবে।দ্বিতীয়ত, সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় করে বা তাদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে, তাহলে দালাল ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে।তৃতীয়ত, ঋণ সহজীকরণ কৃষকদের জন্য আধুনিক কৃষিসামগ্রী ক্রয় ও উৎপাদনে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।তরে এ পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট হলেও আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যা এই সমস্যা সমাধানে অতিরিক্ত ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন- পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার (হিমাগার) নির্মাণ, যা হাসিবের মতো কৃষকদের ফসল সংরক্ষণে সহায়তা করবে এবং তাদের অল্প দামে ফসল বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা দূর করবে। কৃষকদের বাজার তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে তারা পণ্যের সঠিক দাম সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রতারিত না হয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় সমিতিগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব আরও কমাবে।সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপগুলো নিঃসন্দেহে কৃষকের বিপণন সমস্যা সমাধানে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে সম্পূর্ণ ও টেকসই সমাধানের জন্য উল্লিখিত অতিরিক্ত পদক্ষে পগুলোও গ্রহণ করা প্রয়োজন।