উদ্দীপকে কৃষি উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
কৃষকেরা সাধারণত বীজ, সার, সেচ ইত্যাদি চলতি উৎপাদনের উপকরণ ক্রয়ের জন্য যে ঋণ প্রয়োজন হয় অথবা ভূমি সমতলীয়করণ, খাল খনন, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি খামারের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিনিয়োগের জন্য যে ঋণের প্রয়োজন হয় তাকে কৃষিঋণ বলা হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্যও তহবিলের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক উৎস থেকে এ ঋণ গ্রহণ করে। এছাড়া কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ কর্মসূচির আওতায় সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল বীজ, উন্নত মানের সার, কীটনাশক ও কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারছেন। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে দিয়েছে এবং কৃষকদের সরকারি সহায়তায় অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির আওতায় এক জমিতে একাধিক ফসল চাষ, যেমন ধান, ডাল, সবজি, তেলবীজ ইত্যাদি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষি আয়ের উৎস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ বিতরণের ন্যায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, কৃষকের আয় বেড়েছে এবং কৃষিখাতে আত্মনির্ভরশীলতার একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে উঠেছে।