বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ উপখাতের অবদান ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এ খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশ করে।২০১০-১১ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১২,২২১ কোটি টাকা, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১-১২ সালে হয় ১২,৫৪৯ কোটি টাকা এবং ২০১৩-১৪ সালে পৌঁছায় ১৩,২৫৮ কোটিতে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাতের অবদান দাঁড়ায় ৫৩,৯৮৯ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫,৬৬১ কোটি টাকায়। এই উপাত্ত থেকে স্পষ্ট যে, এক দশকের ব্যবধানে প্রাণিসম্পদ খাতের মোট অর্থনৈতিক অবদান প্রায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া এ সময়কালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য ছিল। যেমন- ২০১০-১১ সালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২.৫৯%, ২০১১-১২ সালে ২.৬৮%, ২০১৩-১৪ সালে ২.৮৩%, যদিও ২০২০-২১ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১.৯৮%, তবে ২০২১-২২ সালে পুনরায় তা কমে হয় ১.৯০%। এসব তথ্য প্রাণিসম্পদ খাতের স্থিতিশীলতা ও ক্রমবর্ধমান অবদানকে প্রতিফলিত করে।। প্রাণিসম্পদ খাত দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই খাত থেকে প্রাপ্ত দুধ, মাংস, ডিম ও চামড়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা তৈরি করছে। দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা, গবাদি পশুপালন ও খামার কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এ খাতে কর্মসংস্থান, আয় বৃদিধ ও দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রাণিসম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র খামার ব্যবস্থাপনা, পোলট্রি শিল্প, দুগ্ধ খামার ও চামড়া শিল্প এ খাতের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করছে। উদ্দীপকে তথ্যের বিবেচনায় বলা যায়, প্রাণিসম্পদ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক সম্ভাবনাময়, কর্মসংস্থানমুখী এবং বহুমাত্রিক উপখাত,, যা সঠিক পরিকল্পনা, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।