উদ্দীপকে জনাব আবদুল গনির খামারটি জীবননির্বাহী খামার এবং সুরেশবাবুর খামারটি বাণিজ্যিক খামার। এই দুই ধরনের খামারের মধ্যে বেশকিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।প্রথমত, উদ্দেশ্যের দিক থেকে জীবননির্বাহী খামারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কৃষকের পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটানো এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক খামারের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে পণ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করা এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন পদ্ধতির ক্ষেত্রে জীবননির্বাহী খামারে সাধারণত সনাতন পদ্ধতি, সীমিত প্রযুক্তি এবং কম পুঁজি ব্যবহার করা হয়, এর বিপরীতে, বাণিজ্যিক খামারে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।তৃতীয়ত, বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে জীবননির্বাহী খামারের উৎপাদিত পণ্যের বেশিরভাগই পরিবার কর্তৃক ব্যবহৃত হয় এবং খুব সামান্য অংশই বাজারে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক খামারে উৎপাদিত পণ্যের প্রায় পুরোটাই বাজারে বিক্রি করা হয় এবং এর মাধ্যমে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হন।চতুর্থত, ঝুঁকি গ্রহণের দিক থেকে বাণিজ্যিক খামারে উন্নত প্রযুক্তি ও অধিক বিনিয়োগের কারণে ঝুঁকির পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে, জীবন নির্বাহী খামারে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কম হওয়ায় ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।অতএব, জীবননির্বাহী খামার ও বাণিজ্যিক খামারের এই তুলনা থেকে স্পষ্ট হয় যে উভয় খামারই ভিন্ন উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে পরিচালিত হয় এবং দেশের অর্থনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে অবদান রাখে।