করিম মিয়া যে দুটি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভেবেছেন তার সুবিধাগুলো একই না।
প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকই প্রধান। আর অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎসগুলো হলো আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন। তাছাড়া গ্রাম্য ব্যবসায়ী, ধনী কৃষক, দালাল ও ব্যাপারি ও প্রতিবেশীও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস।
উদ্দীপকে করিম মিয়া প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ না পেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস তুলনামূলকভাবে সহজ। তবে দুইটি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণে সুদের তারতম্য দেখা দেয়। অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎস থেকে ঋণ নিলে বেশি সুদ দিতে হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎস তথা ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ প্রদান করে। যেমন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও সমবায় ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংক হার অপেক্ষা ২% কম সুদের ঋণ দিয়ে থাকে। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মাধ্যমে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরাসরি ঋণ প্রদান করে। তাছাড়া সুদের হারও কম ও পরিশোধের শর্ত সহজ। অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস বেশি সুদের হারে এবং কঠোর শর্তে ঋণ প্রদান করে। তাই করিম মিয়ার ঋণের উৎসগুলোর সুবিধা একই না।