কোনো খাতের প্রবৃদ্ধির তথ্য থেকে জিডিপির অবদান সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। বাংলাদেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর। আর এই বন, কাঠ,ফল, মধু ও জ্বালানি ইত্যাদি নিয়েই বনজ সম্পদ উপখাত গঠিত। পক্ষান্তর, গৃহে ও খামারে পালিত নানা জাতীয় পশুপাখি নিয়েই বাংলাদেশের প্রাণিজসম্পদ উপখাত গঠিত। কৃষি খাতের এ উপখাতগুলোর অবদান প্রতিবছর এক রকম হয় না। উদ্দীপকে কৃষি খাতের দুটি উপখাত, যথা- প্রাণিজ সম্পদ ও বনসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধির হার তুলে ধরা হয়েছ। ২০১০-১১ অর্থবছরে জিডিপিতে প্রাণিজসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৮ শতাংশ এবং বনজ সম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৯০শতাংশ। ২০১১-১২অর্থবছরে এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রাণীজ সম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩.৩৯ ও ৩.৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে বনজ সম্পদ খাতের অবদান ছিল যথাক্রমে ৪.৪২ ও ৪.৪৭। অর্থাৎ বনজ সম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রাণিসম্পদের চেয়ে বেশি বেড়েছে। সাধারণ কোনো খাতের মোট উৎপাদন পূর্বের তুলনায় বেশি হলে ওই খাতের প্রবৃদ্ধি ঘটে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হওয়ার অর্থ উক্ত খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া। তাই যে খাতের প্রবৃদ্ধি অধিক হয় সাধারণত সেই খাতের উৎপাদন অধিক হয়। এই কারণে ওই খাতের অবদান জিডিপিতে বেশি হয়। সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের চেয়ে বনজসম্পদ খাতের অবদান কিছুটা বেশি, একই সাথে বনজসম্পদ খাতের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।