রফিক প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। যেসব উৎস সরকারি ঋণদানের বিধি ও নিয়মের অধীনে ঋণ দান পরিচালনা করে সেসব উৎস হলো প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। এ উৎসের প্রতিষ্ঠানসমূহ হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ, বিভিন্ন NGO ও গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনকানুন ও শর্তের বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজস্ব নিয়মানুযায়ী যে ঋণের আদান-প্রদান হয় তা হলো ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। এ ঋণের প্রধান উৎসগুলো হলো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন, গ্রাম্য ব্যবসায়ী ও দোকানদার প্রভৃতি।
উদ্দীপকে দরিদ্র কৃষক রফিক তার জমিতে চাষাবাদের জন্য গ্রামের মহাজনের কাছে থেকে প্রায় উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করেন। তবে সম্প্রতি তিনি একজন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে একটি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, রফিক প্রথমে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নেন। এ উৎসহের ঋণের সুদের হার কম হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক উৎসসমূহের ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হয়। কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস হতে প্রাপ্ত ঋণের জন্য চড়া সুদ দিতে হয়। অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস হতে ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা খুবই কম, এটি অতি সহজেই প্রয়োজনমতো পাওয়া যায়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মেয়াদ অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের চেয়ে দীর্ঘ হয়। ফলে এটি কৃষিকাজের জন্য সহায়ক হয়। তাই বলা যায়, কৃষিঋণ গ্রহণে রফিকের দ্বিতীয় উৎসটি প্রথম উৎস অপেক্ষা উত্তম।