আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিংড়ি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বলতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতির ধারা ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার, রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতির উন্নয়ন হলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
উদ্দীপকের নজরুল সাহেব চিংড়ি মাছ বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন। চিংড়ি মাছ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য হিসেবে চিংড়ি রপ্তানি করা হয়। আবার, শুকনো চিংড়ি, টিনের প্যাকিং করা চিংড়ি, গুড়ো করা চিংড়ি হিসেবেও রপ্তানি করা হয়। প্রতিবছর বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৪৬ শতাংশই চিগুঁড় থেকে আসে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সাথে সম্পর্কিত।
দেশের অশিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠী চিংড়ি চাষে নিয়োজিত থেকে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। আবার শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ চিংড়ি চাষের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান গড়ে তুলছে। ফলে বেকারত্ব কমে যাচ্ছে। চিংড়ি চাষের মাধ্যমে দেশের লবণাক্ত ও পতিত জমি উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। চিংড়ির সম্প্রসারিত বাজারের ফলে, রাস্তাঘাট, পরিবহন, বন্দরসহ প্রভৃতি অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে। বর্তমানে দেশে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানির জন্য প্রায় ৭৮টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিংড়ি চাষের ভূমিকা অপরিসীম।