উদ্দীপকের গণি মিয়ার জমিতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গণি মিয়ার জমিতে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন যার ফলে তার ফলন বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন উন্নয়নে গৃহীত ব্যবস্থাদির মধ্যে পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে কৃষিকে উপযোগী করার প্রচেষ্টা চালানোর যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তাকে জৈব প্রযুক্তি বলা হয়। একে বায়ো-টেকনোলজি পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে। জিন ও এনজাইম প্রযুক্তি, চিকিৎসা শাস্ত্র, শিল্প ও পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিতেও এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন, উষ্ণতা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব রয়েছে। এসবের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে নতুন পরিবেশের উপযোগী করে নতুন জাত অথবা সহিষ্ণুজাত উদ্ভাবনের প্রয়োজন হয়। জৈব প্রযুক্তি এমতাবস্থায় লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান, শীত সহিষ্ণু পাট, বন্যা-খরা প্রতিরোধী শস্য বীজ প্রভৃতির উদ্ভাবন করে যা গণি মিয়া তার জমিতে ব্যবহার করেছে। সুতরাং গণি মিয়ার প্রয়োগকৃত প্রযুক্তিটি হলো জৈব প্রযুক্তি।