হ্যাঁ, কৃষিপণ্য বিপণনে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে আমি যথেষ্ট মূল্যায়ন করি। তবে এ সকল সরকারি পদক্ষেপ ছাড়াও কৃষিপণ্যের বিপণনে সমস্যা সমাধানে কিছু পদক্ষেপ রয়েছে। গ্রামের প্রাথমিক বাজার, সমাবেশ বাজার ও মাধ্যমিক বাজারের ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন সাধন করতে হবে যাতে বাজারসমূহ পরস্পরের সঙ্গে এবং উৎপাদন এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে কৃষকের পণ্য বাজারজাতকরণে সুবিধা হয়। স্বল্প সুদে ঋণদানের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ঋণদান সংস্থা গ্রামাঞ্চলে স্থাপন করতে হবে যাতে কৃষকের প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কৃষিপণ্যের বাজার থেকে দালাল ও মধ্যবর্তী ফড়িয়াদের বিলোপসাধন করতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সমবায় সমিতি স্থাপনের মাধ্যমে এদের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।। শস্য সংরক্ষণের সময় শস্যের যেন ক্ষতি না হয় এজন্য সরকারকে গুদাম ঘর নির্মাণ করতে হবে এবং শস্য গুদামে মজুদ রাখার বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের নিকট থেকে যাতে আড়তদারি, পাল্লাদারি, টোল, চাঁদা প্রভৃতির অজুহাতে অর্থ আদায় করতে না পারে, সেজন্য আমাদের গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারগুলো সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্বকার কর্তৃক কৃষিপণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য ধার্য করে সেটি যাতে কার্যকর হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। উপরের পদক্ষেপগুলো গ্রহণের ফলে পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য লাভ করবে।