বাংলাদেশে দরিদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহে সমস্যা লাঘবের জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারের গৃহীত এসব কর্মসূচি মূল্যায়ন করা হলো- বাংলাদেশ সরকার কৃষিতে উৎপাদন বিনিয়োগের স্বল্পতা দূর করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলোর মাধ্যমে মাঝারি সুদের হারে কৃষকদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিআরডিবি এবং সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষি ঋণদান কার্যক্রমের সাথে জড়িত করেছে। আবার ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলোর হয়রানি ও শোষণ বন্ধ করার জন্য সরকার একটি জাতীয় ঋণ সালিশ বোর্ড গঠন করেছে। অন্যদিকে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে, আমদানি বিকল্প শস্য চাষে শতকরা ৪ ভাগ রেয়াতি সুদে বিকল্প ঋণ প্রদান করছে এবং ১০ টাকার বিনিময়ে কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ সরকার কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, উপকরণ সহজলভ্যকরণ ও উপকরণ সহায়ক কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকার BADC কর্তৃক ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের কাছে স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ যেমন- রাসায়নিক সার, উচ্চ ফলনশীল বীজ, সেচযন্ত্র, কীটনাশক, উন্নতমানের সার ইত্যাদি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, কৃষকদের সমস্যা লাঘব ও কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি আপাতত যথেষ্ট বলেই মনে হয়।