বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত। সেগুলো কৃষকদের পক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব নয়। যা সরকারের অংশগ্রহণেই সম্ভব। কৃষিপণ্য বিপণনের সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় দিকগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-১. বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ত্রুটি হলো- অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা। পণ্যের সুষ্ঠু বিপণনের জন্য তাই পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বিপুল মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এবং তা থেকে সরাসরি কোনো মুনাফা অর্জন করা যায় না বলে এ কাজে ব্যক্তিগত উদ্যোগ তেমন দেখা যায় না। একমাত্র সরকারেরই সক্রিয় ও অব্যাহত অংশগ্রহণের ফলে তার উন্নয়ন সম্ভব নয়।২. কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় সে জন্য বাজারজাতকরণের নিমিত্তে সারাদেশে সরকারি উদ্যোগে 'কৃষক বিপণন দল' (Farmers Marketing Group)' 'কৃষক ক্লাব' গঠনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কৃষি বাজার উন্নয়ন এবং লিংকেজ তৈরির জন্য ঢাকাতে একটি সেন্ট্রাল মার্কেট নির্মাণ কাজ (গাবতলীতে) সম্পন্ন হয়েছে।৩. কৃষিপণ্যের বাজার থেকে দালাল ও মধ্যবর্তী ফড়িয়াদের বিলোপ সাধন করতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সমবায় সমিতি স্থাপনের মাধ্যমে এদের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।৪. বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের নিকট থেকে যাতে আড়তদারী, পাল্লাদারী, টোল, চাঁদা প্রভৃতির অজুহাতে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে জন্য আমাদের গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলো সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।৫. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ, কৃষি ঋণের আওতা বৃদ্ধি এবং প্রাপ্তি সহজীকরণ, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং ফসল সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যাগুলো সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকার বা রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।