বাবুল মাল্টা বিক্রি করতে গিয়ে কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যার সম্মুখীন হন।কৃষিপণ্যের বিপণন বলতে কৃষিপণ্য সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ নমুনাকরণ, পরিবহণ, ঝুঁকি গ্রহণ, মানোন্নয়ন প্রভৃতি কার্যাবলিকে বোঝায়। বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা খুব একটা উন্নত নয়। ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত দ্রব্য তথা ফসল বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়। কৃষিজাত পণ্য বিপণনের একটি প্রধান সমস্যা হলো অনুন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার জন্য কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে না। বাড়িতে বা গ্রামের হাট-বাজারে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে। ফলে তারা কৃষিপণ্যের উপযুক্ত দাম পায় না। আমাদের দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় দালাল, ফড়িয়া, বেপারি, মজুদদার, আড়তদার ইত্যাদি বহু ধরনের মধ্যবর্তী ব্যবসায়ী শ্রেণির অস্থিত্ব আছে। কৃষিপণ্যের বাজারে কৃষক তার পণ্য প্রকৃত ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করতে পারে না। কারণ প্রকৃত ক্রেতা ও কৃষকের মাঝে থাকে এই মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরা। মুনাফার প্রায় সবটুকুই এই সমস্ত মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। ফলে কৃষক তার পণ্যের মূল্যের একটি অংশ পায় মাত্র।উদ্দীপকের বাবুল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করলেন। তার মাল্টার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু তিনি অধিক পরিবহণ ব্যয়ের জন্য মাল্টা অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করতে পারেন না। এ জন্য তাকে দালাল- ফড়িয়াদের কাছে কম দামে মাল্টা বিক্রি করতে হয়। কাজেই বলা যায়, কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যার কারণেই বাবুল মাল্টার ন্যায্য দাম পান না।