রাজারামপুর গ্রামের বর্গাচাষি আনু মিঞা অন্যের ৫ বিঘা জমি চাষ করেন। তিনি একজন দরিদ্র কৃষক হওয়ায় প্রয়োজনীয় কৃষি- উপকরণসমূহ ক্রয় এবং কৃষিকাজ সুষ্ঠুরূপে পরিচালনার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ইতিপূর্বে স্বল্প সুদের হারে প্রয়োজনমাফিক ঋণ প্রাপ্তির জন্য তিনি স্থানীয় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় যান। কিন্তু সেখানে ব্যাংক ঋণ প্রদান পদ্ধতি জটিল, সময়ক্ষেপণকারী ও হয়রানিমূলক হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়েই কৃষিকাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য আবাদ মৌসুমে গ্রাম্য মহাজনের শরণাপন্ন হন। তার কাছ থেকে অত্যন্ত কঠিন শর্তে ও চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেন।আনু মিঞা যে উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন তা কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস বলে পরিচিত। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন, গ্রাম্য ব্যবসায়ী ও দোকানদার, ধনী কৃষক, দালাল, ব্যাপারি ও প্রতিবেশীরা হলো অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বিভিন্ন উৎস। ঋণের এ উৎসগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ-উৎসগুলোর মতো নিয়মতান্ত্রিক এবং সরকারি বিধি-বিধানের অধীন নয়। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন- কানুন ও শর্তের বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজস্ব নিয়মানুযায়ী। পরিচালিত হয়। ঋণের এসব উৎস এককথায় অসংগঠিত, অনিশ্চিত এবং শোষণমূলক আনু মিঞাদের মতো কৃষক এরকম উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে প্রায়ই প্রতারিত হন; এমনকি কখনো কখনো নিঃস্ব হয়ে পড়েন।