কৃষিপণ্য বিপণনে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। কেননা বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের নিম্নমান, কৃষকদের দারিদ্র্য, বিপণন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, পণ্য গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাব ইত্যাদি সমস্যা কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বিপণন করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে আছে। কৃষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার সমাধান সম্ভব নয়। একমাত্র সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধমেই কৃষিপণ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করে কৃষির দ্রুত উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। নিচে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য বিপণনের সরকারি পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করা হলো-বাফার স্টক: বাফার স্টকের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিম্নগতি রোধ করা যায়। যখন কৃষিতে বাম্পার ফলন হয় তখন সরকার কৃষিপণ্য গ্রামাঞ্চল থেকে ক্রয় করে তা সংরক্ষণ করলে কৃষিপণ্যের দামের নিম্নগতি রোধ হয়। আবার যখন কৃষি উৎপাদন কম হয় তখন বাফার স্টকের পণ্য বাজারে ছাড়লে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ পায়। এভাবে সরকার রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।গুদামঘর নির্মাণ: কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য গ্রামে গুদামঘর থাকা দরকার। কিন্তু গুদামঘর নির্মাণ করা কৃষকদের জন্য কঠিন। তাই সরকারি উদ্যোগে গুদামঘর নির্মাণের মাধ্যমে ফসল সংরক্ষণ করা সম্ভব।কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ: কিছু কৃষিশস্য সহজেই পচে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন- টমেটো, আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পান, আদা ইত্যাদি। সরকারি উদ্যোগে যদি এ সকল ফসল সংরক্ষণ করা যায় তবে কৃষকদের স্বার্থরক্ষা পাবে।ঋণদান: কৃষকদের দারিদ্র্যের কারণে তাদের নিজস্ব মূলধন নেই। তাই কৃষকরা ঋণ করে বা বাকিতে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি ক্রয় করে থাকে। কৃষকরা মূলধনের অভাবের কারণে সঠিক সময়ে ও প্রয়োজনমাফিক ফসল উৎপাদন করতে পারে না। তাই তারা গ্রাম্য মহাজনদের কাছে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এ সকল কৃষকের জন্য সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও পদ্ধতি সহজ করা দরকার। যাতে স্বল্প সময়ে, বিনা সুদে, সহজ শর্তে কৃষকরা ঋণ পায়। তাহলে রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়ন হবে বলে আশা করা যায়।