বাংলাদেশের কৃষিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কারণে জনাব দুলাল কৃষিতে উন্নতি করতে পারছেন না। বাংলাদেশের কৃষিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো হলো- সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ, ক্ষুদ্র কৃষিজোত, কৃষি উপকরণ এবং শস্য বহুমুখীকরণের অভাব।বাংলাদেশের অনেক কৃষক চাষাবাদের ক্ষেত্রে এখনো সনাতন কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগেও আমাদের কৃষকরা লাঙল ও জোয়ালের সাহায্যে চাষাবাদ করে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এখনো খুবই সীমিত। তদুপরি, আমাদের দেশের গরিব কৃষকদের পক্ষে এসব ব্যয়বহুল কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করাও কঠিন। আবার বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষিজোত অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত। কোনো কোনো জমি এত ছোট যে, এগুলোর মধ্যে লাঙল দিয়েই চাষ করতে হয়। এসব জমিতে আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায় না। ভালো ফসল ফলাতে হলে ভালো সার ও উৎকৃষ্ট বীজের প্রয়োজন হয়। আর যা কি না প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া শস্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকেরই শস্য বহুমুখীকরণ সম্পর্কে ধারণা নেই।উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব দুলালও বাংলাদেশের কৃষিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ তিনি উৎপাদন ক্ষেত্রে সনাতন চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। আবার তার কৃষিজোতগুলো ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত, ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। এছাড়াও কৃষি উপকরণের অভাব এবং শস্য বহুমুখীকরণ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় তার উৎপাদন বাড়ছে না। তাই তিনি কৃষিতে উন্নতি করতে পারছেন না।